Quote image editor
“দরজা খোল মা। ওধারের ছিটকিনিতে জং পড়ে আছে, সিঁদুর শুকোলে যে রঙ নেয় সিঁথি; ‘মা’র কাছে বাতাস তো সন্তানের শ্বাস’ বলতে মা, মনে আছে? জ্বরের ওপাশ থেকে; জলপটি, সরু কোন নদী কপালে বুলিয়ে দিতে; তাই পার হতেই এসেছি। শেষ লঞ্চ ছেড়ে গেলে আঁচলের সুতো ছিঁড়ে দিও। কতবার গৌতমের মতো রাস্তায় মৃত দেখে, বেড়িয়েছি আলোর সন্ধানে। সারাদিন ঘুরে শেষে বাড়ি ফিরে দেখি- সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে তুমি, পৃথিবীর সমস্ত আলো অনায়াসে তুলসী মঞ্চে ফেলে রেখে গেলে। সারারাত ঘরময় পায়চারী করি মাথার ওপর ঘোরে বৈদ্যুতিক পাখা। মাঝে মাঝে ভয় হয় – মাটিতে পড়েছে যেটা আমার নিজেরই ছায়া কি না! দু একটা শত্রু থাকলে মনে হয় – নাহ্ বেঁচে আছি; এভাবে একা একা অন্ধকারে মিশে... শুয়ে থাকার দিনও শেষ হয়ে এলো। দরজা খোল মা- এভাবে একটা ঘরে এতদিন বেঁচে থাকা ওষুধ খাওয়ার থেকে বেশি কষ্টকর। পাশের ঘর বলতে জংলার গাছ; কি একটা লাল পোকা – প্রতিদিন সন্ধ্যে হলে মোমবাতির কাছে; আগুনের রঙ বদলানো দেখে যায়, অথচ আমার ভাষা সে কিছুই বোঝে না! সময় ফুরিয়ে এলো। ফিরে দেখা সুতোদের জট এবার কাটিয়ে উঠে, দরজা জানালা সামান্য আলোর কথা মুখে তুলেছিল... আক্ষেপ সে সবে নয়- ভাবি শুধু – কতই কবিতা না পড়াই রেখে যেতে হ’ল। দরজা খোল মা।” — মৃগাঙ্কশেখর গঙ্গোপাধ্যায়