“আবেদের মাথায় কিছু কথা ঢোকে, কিছু ঢোকে না। তবে অবাক হওয়ার পর সে হতাশ হয় এই ভেবে যে, তাকে হারিয়ে মেয়েটার মনে কোন হাহাকার নেই। সে যদি চাকরি চাওয়ার পরিবর্তে তার গালে দুটি চড় মারতো, তাহলে আবেদের ভালো লাগতো। তার নবলব্ধ ক্ষমতা সার্থক হতো। অর্থ-বিত্ত, ভালো একটা বাড়ি, সুন্দরী স্ত্রী পুরুষের সব নয়। আরো লাগে। এসবের একটা হলো, যাকে সে ছেঁড়া কাপড়ের পুঁটুলি বানিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে রাস্তায়, কুকুরীর মত পুরুষটির পদতলে তার বারবার ফিরে আসা। মেয়েটি সেইভাবে আসেনি। সে নিজের তালে আছে। কিন্তু যুদ্ধের আগে তো এমন ছিল না। তখন বিয়ে ছাড়া যে মেয়ে আর কিছু বুঝতো না, কয়টা পুরুষের নিচে শুয়েছে যে, এখন আর পুরুষ নয়, হন্য হয়ে চাকরি খুঁড়ছে? চেহারায় কেমন রান্ডি রান্ডি ভাব। যেন দুনিয়া জয় করে ফিরেছে। বীরাঙ্গনা মানে অসহায়-নির্যাতিত নারী, সহানুভূতির আড়ালে মানুষ সর্বান্তকরনে তাদের ঘৃনাই করে। তারপর এতো সাহস সে কোথায় পায় যে, প্রাক্তন প্রেমিকের কাছে প্রেম ফেরত না চেয়ে, চাকরি চাইতে আসে?” MisogynyPatriarchyBangladeshRape Survivor1971Birangona Book:তালাশ Source: তালাশ