“পুরুষতান্ত্রিক বাঙলা কবিতা বারবার প্রেমিকা কেমন এবং কী রকম হবে- তার একটা দীর্ঘ দেবীবন্দনার অশ্লীল তালিকা বারবারই তো আমাদের সম্মুখে স্তন-যোনি-নিতম্বের দাবিসহ ক্রমাগত পেশ করে গেছে; সেই পুরুষনির্মিত গণোরিয়ার দাবি এবং মধুকর ডিঙির সংখ্যা একইসঙ্গে শুনতে শুনতে এবং গুনতে গুনতে আমরাও যখন ক্রমশ ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত- ঠিক সেই রকম এক ক্লান্তি ও লাঞ্ছনার কালে "লবণপীড়িত মহুলমাস" অতিক্রম করতে করতে সোনালী আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন- অনেকটা যেন অলংকারবর্জিত আভরণবর্জিত এক রক্তিম ও শ্যামলীন যোগিনী- যিনি প্রথম স্পষ্ট করে বললেন- তাঁর চাই মৃত্তিকা ও নক্ষত্র দিয়ে গড়ে ওঠা এক প্রেমিক, যে প্রেমিক যে কোনো মুহূর্তে দাঁড় বেয়ে বর্ষা আনতে পারে- যে প্রেমিক যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ্যা পাথরে ঘা মেরে মেরে পদ্মফুল তুলে আনতে পারে- যে একইসঙ্গে খুনী শ্যাম এবং তরঙ্গবিক্ষুব্ধ অবধূতও বটে- সোনালী, সোনালী একমাত্র সেই বজ্রযোগীস্বরূপ প্রেমিকসত্ত্বার অপেক্ষায় পরকীয়ারত, স্পষ্ট ও প্রলয়তুচ্ছ” LoveLifeSoulPoetryExperience Book:Sonali Chakraborty Source: Sonali Chakraborty
“সোনালী চক্রবর্তী বেনারসে জন্ম, উত্তরবঙ্গে বেড়ে ওঠা সোনালী চক্রবর্তীর। বর্তমানে সাহিত্যের গবেষক এই তরুণ লেখকের ইতিমধ্যেই একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোনালীর কবিতা। পাঁজর তুমি আমায় অজুহাত শব্দের বানান শেখাও, আর আমি মহালয়ার ভোরে খুঁজি বিষণ্ণতা বার্ষিকী। জমে থাকা কুয়াশায় টুরিষ্ট জুতো, ইয়াবার মেঘে ক্রমশ একা থেকে একা। অভিমান চিরদিন নিথর অজগর, গিলে বসে থাকে যাবতীয় সত্যের শ্বাস। তোমার গভীর নির্লিপ্তি থেকে ঝিকিয়ে ওঠা নীল আঘাতেরা মনে পড়ায় দুর্বাসার তপশ্চর্যা, তবুও কি ভীষণ মোহে আমার দিনাতিপাত… আমি জানি, ইভেরা এভাবেই মেনে নেয়, পাঁজর নির্ভরতার ধারাপাত। লীলা নিবিড় ক্ষরণ নি:শব্দে অন্তের পর গহীন হও তুমি, উতরোল সোহাগে স্নাত ব্যথাদের, অবগুন্ঠন খোলো ত্রাতার মসীহায়, ক্ষতস্থান আমার অনাঘ্রাত নববধূ, কে জানতো? ‘লবণ’ তোমার প্রিয় বিলাস।” MenLifePoetry Author:Sonali Chakraborty