Quotessence
Home / Topics / Bengali Poets Quotes

Bengali Poets Quotes

Browse 51 quotes about Bengali Poets.

Bengali Poets Quotes

“জানি, তার ভালোলাগাগুলি সংক্ষেপে লিখি নি কোথাও। ভালোবাসা- চলে যাওয়া সময়ের মতো; সময়ে তাই তাকে বলতে পারি নি। নিজের চাওয়ার কাছে এতোটাই পাথর ছিলাম। কিছু কিছু ভালোবাসা বোঝা যায় বিচ্ছেদের পর।”

“প্রতিদিন যে মানুষ গ্রহণযোগ্যতা হারায়, তাকে তুমি ভালোবাসতে শেখাও। গাছকে, পাখিকে, রাস্তার কুকুরকে। সে বুঝবে পৃথিবীতে প্রতিদানে শুধুমাত্র মানুষ ফেরায়।”

“পৃথিবীর কাছে আমি অন্ধের মতো রঙের বর্ণনা শুনি। অথচ এও জানি জলের স্বচ্ছতা নিয়ে তোমাকে কোনদিন পড়তে পাব না। তোমার ক্ষতের গায় আঙ্গুল বুলিয়ে পড়ে চলেছি ব্রেইল পদ্ধতিতে।”

“কী হয় ঝড়ের সাথে ফেলে দেওয়া চিঠি উড়ে এলে? হয় তো বা পড়ে দেখি আরেকবার, অভ্যাসবশত। যদিও জানি না, সময়ের সাথে অর্থ বদলে যায় কি না। অথচ দু'বার আমরা মানুষ পড়ি না।”

“ভালোবাসি' - মুখে বলতে পারে না সকলে। অবান্তর খোঁজ নেবে- বাড়ি ফিরেছ কিনা। মনে করাবে ওষুধের কথা। প্রতিদিন প্রশ্ন করবে- কেমনটা আছ 'ভালোবাসি'- মুখে বলতে সকলে পারে না৷”

“মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে- যা কিছু বলার ছিল লিখেছি সাধ্যমত তোমাকে বোঝাতে। তারপর মনে হল- হয় তো আমার কথা তোমাকে ক্লান্ত ক'রে তোলে। তাই সব মুছে দিয়ে চুপ ক'রে গিয়েছি সহসা।”

“বুকের বাঁ দিকে কোন উপমা থাকে না, একমাত্র হৃদ্-রোগী জানে। তুমি এসে শিখিয়েছ - প্রকৃত একাকী হ'লে মৃত্যুভয় কেটে যেতে থাকে; মানুষ গাছের মতো নির্লিপ্ত হয়ে যায়; কাটা পড়ে, তবু প্রাণে আঘাত লাগে না।”

“যদি এ সহজ সত্য বুঝে নিতে পারো- আমার কিছুই নেই কবিতা লেখার। যে আঘাত অপরাধ তোমাকে দিয়েছি, শিশুর মতন সহজাত, ফিরিয়ে দেবেই যদি অসময়ে কেন যে ফেরালে। তোমাকে দেবতা রূপে যে দানব বসায় আসনে তাকে না শাসন দিও; প্রেম ভরে দিলে অবহেলা। আমাকে বিবস্ত্র করে সকলের সামনে নিয়ে ফেলো। মানুষ দেখুক, এই লোমহীন হৃদযন্ত্র থেকে মৃত নাগরিক শব্দে যে শিশির প্রার্থনা শোনায়, সে জানে রোদের হাতে মৃত্যু তার বড় নমনীয়।”

“ভালোবাসা ভিক্ষুকের আধুলির মতো তার কোন সঞ্চয় নেই মালিকানা বদল একদিনের ব্যাপার তবুও ভিখারি কত আশা নিয়ে থাকে উপেক্ষা ভরেও যদি ছুঁড়ে দেয় কেউ সে বলে - ঈশ্বর মঙ্গল করুন। আমরা বোকার মতো আধুলি জমাই ঈশ্বরকে দোষ দি, আচল বেরোলে । - মৃগাঙ্ক শেখর গঙ্গোপাধ্যায়”

“মিথ্যেগুলো যত্ন ক'রে সাজাই ঘরে চুরি যাওয়ার ভয়ে বসাই খুব পাহারা এখন আমার সত্যি ভীষণ ইচ্ছে করে আমাদের মধ্যে আর কিছুই না থাক মিথ্যে ছাড়া।”

“আমার অসুখ করে। কী যে অসুখ করে বুঝতে পারি না। ডাক্তার তাড়া দেয়- পাঠায় একাকী এক অন্ধকার ঘরে। আমি ভাবি- এ তোমার বুকের ভেতর। মেঝেতে পায়ের ছাপ, দেয়ালে নখের। বোঝা যায় এতোদিন অন্য কেউ ছিল। চলে গেছে, রেখে গেছে অপেক্ষার দাগ। এ ঘরে জানলা নেই। যেটুকু বাতাস ঐ তোমার শ্বাসের। পরজীবী বেঁচে থাকা। তুমি যদি রাগ করো, দমবন্ধ করে রাখো, আমি তবে বাঁচি কী উপায়। জানো আমি ভুলে যাই- ওষুধ সময়ে খেতে, জল ঠিক মনেও পড়ে না। ঘাম হ'লে মনে হয় - ফ্যান তো চালানো ছিল, বন্ধ হয়েছে ঠিক কবে ? অথচ তোমার কথা - মনে পড়ে মনে পড়ে ভুলতে পারি না। ওষুধটা কড়া খুব; ডাক্তার বলেছিল - ঘুম হ'লে সব সেরে যাবে। যেন এ ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট মানুষ থাকে না। ইদানিং নিজেকেও ঠিক যেন মানুষ লাগে না; মনে হয়- কোন ঘড়ি, দম দিতে ভুলে গেছে কেউ। তুমিও তো দিনমানে দু'বার তাকাও বন্ধ হয়ে পড়ে আছি তাই আর বুঝতে পারো না।”

“যক্ষ-প্রিয়ার চিঠি দিতে নিতে মেঘ; কখন হয়েছে ঘন তার প্রেমাবেগ। অথচ প্রকাশে যত কুণ্ঠা ছিল তার ধারণে কৃষ্ণ হ'ল, বিষ-উদ্‌গার। যতবার আর ভার পারে না সে নিতে বৃষ্টি হয়ে ততবার ঝরে পৃথিবীতে।”

“এতটা পুড়িনি আগে; সেইবারও জ্বেলেছিলে, মোমবাতি মনে ক'রে। আমিও চাদর ভেবে তোমাকে জড়িয়ে গায়, সারারাত কাটিয়েছি গঙ্গার ধারে। I haven't burned this much before; Even that time you lit (me) , Thinking of (me) as a candle. I too, thinking of you as a shawl, wrapped you around my body, (and) spent the whole night by the Ganges.”

“আমার কিছুই করার থাকে না মাঝে মাঝে পুড়িয়ে দিতে হয় সদ্য পাকা ধান মাঠকে মাঠ। ১ দূরের স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের আওয়াজ, বুঝতে পারি ভোর হল। মনে পরে - প্রেমিকারা ডেকে দিত; একটা সময় - মায়ের গলার স্বর পাক খেয়ে ঢুকে থামত কানের ভেতর। সেসব শীতের দিনে, জানি না কোথার থেকে আজানের ডাক- বাবার রাস্তা ধ’রে কোচিং যেতাম। কোনদিন সময়েতে এলার্ম বাজে নি, তোমার যাওয়ার, তাই, বহু পর ঘুম ভেঙেছিল। কিছুকিছু ঘুম থাকে- ভাঙলে, বহুদিন কোন ঘুম আসে না। দূরের স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের ডাক, চলে যাচ্ছি কলকাতা ছেড়ে। ২ দাদা কবে কলকাতা ছেড়ে গ্যালো মনে পড়ে না। কিছুকিছু ছেড়ে যাওয়া বহুদিন না বোঝাই থাকে। বন্ধুরা বিদেশ গেলে কলকাতাও বহুদিন বুঝতে পারে না- কখন ত্রিকোণমিতি, ভূমিকেও লম্ব করে দেয়। ৩ আমরা আর কোন মিছিলে দাঁড়াব না হারাব না কোন ব্রাজিল বেঙ্গল ধমকে কেড়ে নেওয়া হাতের সিগারেট দু এক দিন থাক কথাও বন্ধ গোর্খা মেয়েটিকে বলাও হবে না রবির গানে তার এখনো চোখে জল আমরা ছেড়ে যাব - বিদেশে কলকাতা, গুগুল আর্থে প্রিয় মফস্বল। ৪ রাস্তারা এখন আর বাড়ি অব্ধি ছেড়ে যায় না বলে না, বোকাচোদা, আমার গা’য় না, একটু ঝুঁকে ড্রেনে বমি কর। বন্ধুরা বাইরে চলে গেলে কলকাতার রাস্তাঘাট নির্লিপ্ত হয়ে যায়।”

“একটা গুরুত্বহীন প্রশ্ন করেছেন এক অনুজ: 'শূন্যের কবি' কথাটির ব্যাপ্তি কতটুকু? বললাম, তুমি কি তাদের পথানুসরণ করতে চাচ্ছ, যারা নামের আগে এ জাতীয় তকমা পাকাপোক্ত করে রাতারাতি জীবনানন্দ বনে যেতে চায়?”

“কথা বলুন রাস্তায় বেরিয়ে যে কোন কারোর সাথে চেনা বা অচেনা দেখবেন, কত মানুষ কথা বলতে চায় চুপ করে আছে শুধু – এই ভেবে – উল্টোদিকের মানুষটা যদি মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় ! - লোকে কী ভাববে !”

“ভুলে যেতে এতো কষ্ট হয় ! পড়া বলতে গিয়ে কত হোঁচট খেয়েছি । স্যারের বেতের দাগ নীল হয়ে জেগেছে শরীরে । এখন শরীর নীল তবু তুমি জেগে আছ বলতে না পারা সব কথার ভিতর ।।”

“মে ২৭, ২০১১ ( পত্রিকা- শব্দ হরিণ) এখন, সময় থেকে কিছু হাত দূরে বসে আছি; আগুনের পোষাক পরণে কপালে কে লাগিয়েছে চন্দনের ফোঁটা তুমি বলছ- ধীর গতি জন্মদিন জন্মদিন শুভ হোক! শুভ... প্রতিবেশী যে মেয়েটি এতদিন পরে সন্তানসম্ভবা; একটু দূর ঘরে – কেমন অবশ চোখ! উলুধ্বনি দেয় আর খই উপচে পড়ে মুঠো থেকে মুঠো – পাখিরা কি খুটে খাবে? নাকি ঠোঁটে ক’রে তুলে দেবে ভুখাপেট শিশুটির মুখে... যেভাবে আমার মুখে তুলেছ আগুন! রাত্রি হ’লে আসে জ্বর; জ্বরের খোয়াবে... মাথা যে ধোয়াবে- তার সম্ভাবনা কই! জন্মেই যে কবন্ধের গন্ধ লেগে দেহে! এখন পেড়োয় পথ ছড়ানের খই। শরীরের জলছাপ, নখে খুঁটে খুঁটে- পুরোনো ডায়রি পাতা, খসে গেছে জলে; হেমন্তের রোগ যেন ধরেছে, আঙুলে ছুঁয়ে আছি কবিতার বাকি দাহ মুখ। তুমি ছুঁয়ে আছ ঠোঁট নুয়ে পড়া কথা তাতে কি অক্ষর কোন সুগন্ধার নামে...! বন্ধক ছাড়াবে নাকি জমাবে সন্দেহ? সবচেয়ে চড়া সুদ ওটাতেই পাবে! তারা এসে খসে পড়ছে বেনারসি পাড়ে। তোমার বিয়ের শাড়ি; আঁচলের গিট চুপিসারে খুলে... খেলতে নদীর ওধারে... জড়ো হচ্ছে শীত। যেসব মাছের চোখ আটকা প’ড়ে জালে পাশ ফিরলে দেখতে পাই সে চোখে তাকালে তোমার নাকের নথ্‌ চোখের কাজল ‘মেঘের ওজন’ বুঝি কোম্‌লো আজও... বন্ধুদের নীচু স্বর “বলো হরি! হরি ...” বন্ধুদের উঁচু স্বর “বলো হরি? হরি ...” বাকি সব অন্ধ আজ সব বাকি অন্ধকার শুধু দেখতে পাই- দেহ ছুঁয়ে আছে বসে আমার ঈশ্বরী।”

“দরজা খোল মা। ওধারের ছিটকিনিতে জং পড়ে আছে, সিঁদুর শুকোলে যে রঙ নেয় সিঁথি; ‘মা’র কাছে বাতাস তো সন্তানের শ্বাস’ বলতে মা, মনে আছে? জ্বরের ওপাশ থেকে; জলপটি, সরু কোন নদী কপালে বুলিয়ে দিতে; তাই পার হতেই এসেছি। শেষ লঞ্চ ছেড়ে গেলে আঁচলের সুতো ছিঁড়ে দিও। কতবার গৌতমের মতো রাস্তায় মৃত দেখে, বেড়িয়েছি আলোর সন্ধানে। সারাদিন ঘুরে শেষে বাড়ি ফিরে দেখি- সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে তুমি, পৃথিবীর সমস্ত আলো অনায়াসে তুলসী মঞ্চে ফেলে রেখে গেলে। সারারাত ঘরময় পায়চারী করি মাথার ওপর ঘোরে বৈদ্যুতিক পাখা। মাঝে মাঝে ভয় হয় – মাটিতে পড়েছে যেটা আমার নিজেরই ছায়া কি না! দু একটা শত্রু থাকলে মনে হয় – নাহ্‌ বেঁচে আছি; এভাবে একা একা অন্ধকারে মিশে... শুয়ে থাকার দিনও শেষ হয়ে এলো। দরজা খোল মা- এভাবে একটা ঘরে এতদিন বেঁচে থাকা ওষুধ খাওয়ার থেকে বেশি কষ্টকর। পাশের ঘর বলতে জংলার গাছ; কি একটা লাল পোকা – প্রতিদিন সন্ধ্যে হলে মোমবাতির কাছে; আগুনের রঙ বদলানো দেখে যায়, অথচ আমার ভাষা সে কিছুই বোঝে না! সময় ফুরিয়ে এলো। ফিরে দেখা সুতোদের জট এবার কাটিয়ে উঠে, দরজা জানালা সামান্য আলোর কথা মুখে তুলেছিল... আক্ষেপ সে সবে নয়- ভাবি শুধু – কতই কবিতা না পড়াই রেখে যেতে হ’ল। দরজা খোল মা।”

“মনে হয় মার চোখে পাতা নেই মাছেদের মতো আমার পড়ার স্বর মায়ের গলার কাছে সার বেঁধে এসে দাঁড়িয়েছে এঁটো ভাত গন্ধ ছাড়ে আরশোলা হেঁটে এসে দেখে তার মতো এক প্রাণী, বিবর্তন হয় নি কখনো একা জেগে বসে আছে কখন ছেলের পড়া হবে”

“কি অদ্ভুত যোগাযোগ দ্যাখো এতকাল অপেক্ষার পর দু’জনেই বিপরীত মুখে হেঁটে যাব দু’জনের পদচিহ্ন ধরে। জেলের দেয়াল বড় উঁচু অনেক বেলা না হলে নিজেদের ছায়া পড়ে না অনেকটা সময় থাকে কবিতা লেখার। শিল্পীর ভাগ্যই তাই যাঁকে সে শরীর দেয় তাঁরই কাছে হাঁটু মুড়ে বসা...। আর তুমিও শিল্পী বটে মাটি জল বাতাস উত্তাপে যে মানুষ তোমাকে নিজের আকার দেয়; সেই পঞ্চভূতে মিশিয়েই তাকে দাও তোমার আকার।”

“যন্ত্রণা মন্দির হলে আমি তার হব কারিগর তোমাকে ঈশ্বরী রূপে পূজা হবে, ভক্ত সমাগম সবাই দেখবে সূক্ষ কারুকাজ পাথরের গায় কোন এক আর্কিটেক্ট অঙ্ক কষে দেখবে তারপর কতটা পাথর কাটলে যন্ত্রণা মন্দির হতে পারে”

“ঈশ্বর দেহ পাল্টালেন – ডুবে যাওয়া মালা, ফুল, আশীর্বাদী হাত ভেঙ্গে পাড়ার ছেলেরা ঈশ্বরের মিমিক্রি ফাজলামি কেউ তাঁর মাথাটুকু নিয়ে একটা বাচ্চা ছেলে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে। কি চাই? বলে, একটা কিডনি হবে কিনা ।”