Quotessence
Home / Topics / Bengali Quotes

Bengali Quotes

Browse 106 quotes about Bengali.

Bengali Quotes

“মেয়েদের অনেক গুণের মধ্যে বড় গুণ হলো এরা খুব সুন্দর করে চিঠি লিখতে পারে। কথাবার্তায় নিতান্ত এলোমেলো মেয়েও চিঠি লেখায় গোছানো। মেয়েদের চিঠিতে আরেকটা ব্যাপার থাকে - বিষাদময়তা। নিতান্ত আনন্দের সংবাদ দিয়ে লেখা চিঠির মধ্যেও তারা জানি কী করে সামান্য হলেও দুঃখ মিশিয়ে দেয়। কাজটা যে তারা ইচ্ছা করে করে তা না। প্রকৃতি তাদের চরিত্রে যে বিষাদময়তা দিয়ে রেখেছে তাই হয়তো চিঠিতে উঠে আসে।”

“রাষ্ট্রে, ধর্মে, সমাজে, তাঁর জীবৎকালে যত আন্দোলন এ-দেশে জেগে উঠেছিলো, তার প্রায় প্রত্যেকটিতে সাড়া দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তাকে ফলিয়ে তুলেছিলেন সাহিত্যে, কখনো-কখনো প্রত্যক্ষভাবেও অংশ নিয়েছিলেন ; কিন্তু কদাচ কোনো সংঘভুক্ত হননি, কোনো পুরোহিতের আনুগত্য স্বীকার করেননি, তাঁকে বাঁধতে পারে এমন বাঁধন কারো হাতেই তৈরি হলো না। ("শিল্পীর স্বাধীনতা" প্রবন্ধের অংশ)”

“...মনে হয় যেন খুব বেশি বলা হয়ে গেল এই কতদিনে। সমস্ত দিনের পর গভীর রাতে বাড়ি ফিরে গ্লানির মতো লাগে। কথা, কথা যেন একটু চুপ ছিল না কোথাও, থাকতে নেই, হাতে হাত রাখতে নেই। যে-নীরবকে খুঁজতে বেরিয়েছিলে, সবাই মিলে, কোথায় সেসব মিলিয়ে গেল বাতাসে, যেন সেসব জানতে নেই কখনও। ...তাই মনে হয় লিখতে হবে নিঃশব্দে কবিতা, এবং নিঃশব্দ কবিতা। শব্দই জানে কেমন করে সে নিঃশব্দ পায়।”

“ঘরে ফিরে মনে হয় বড়ো বেশি কথা বলা হলো? চতুরতা, ক্লান্ত লাগে খুব? মনে হয় ফিরে এসে স্নান করে ধূপ জ্বেলে চুপ করে নীলকুঠুরিতে বসে থাকি? কী-বা আসে যায় লোকে বলবে মূর্খ বড়ো, লোকে বলবে সামাজিক নয়।”

“আমার বেদনাখানি রেখে যাবো বাঁশির ভেতরে অনেক ঋতুর শেষে তুমি এসে তুলে নিলে বেজে উঠবে আনন্দলহরী এভাবেই চিরকাল মুছে যাবে তোমার আমার সমূহ দূরত্বকথা সকল অন্তর”

“আমির মধ্যে অন্য আমি, ঘুমের মধ্যে জাগা মেঘের মধ্যে ভেজা বারুদ, ফুলের মধ্যে জ্যোৎস্না গ্রন্থভুক পথ পাগল, প্রেমিক উদাসীন একটা আমি ছাতা মাথায়, অন্য আমি নদীর জলে নামে।”

“যে মানুষগুলোকে আগে কখনও দেখিনি তাদের থেকে বিদায় নেবার সময় সবার চোখে পানি– এ রকম বিচিত্র ঘটনা বাঙালি ছাড়া অন্য কোনো মানুষের জীবনে ঘটেছে কি না আমার জানা নেই। মাঝে মাঝেই মনে হয়, ভাগ্যিস বাঙালি হয়ে জন্মেছিলাম, তা না হলে কত কিছু যে অজানা থেকে যেত!”

“এক সন্ধ্যায় কলেজ স্ট্রিট কফিহাউসে একটা টেবিলের সামনে একা বসে বন্ধুদের জন্য অপেক্ষা করছি। হঠাৎ কবি বিনয় মজুমদার এসে মুখোমুখি বসে বললেন, 'হ্যাঁ মশাই, আমি যা জানি, তা-ই তো আমার জ্ঞান?' সায় দিতেই তিনি তেমনই হঠাৎ উঠে গেলেন। কিন্তু তখনই আমার চমক জেগেছিল। জ্ঞান জিনিসটার সরল ব্যাখ্যা আর কী হতে পারে! এইজন্যই কবিদের বলা হয় ক্রান্তদর্শী। স্তূপাকার জ্ঞানই আমাদের অভিজ্ঞতা। তার থেকে একটুখানি বেছে নিয়ে ভাঙচুর করার ব্যাপারটাই আসলে শিল্প এবং শেষাবধি তার পরিণাম একটা আখ্যান, যা গল্প (fiction) নামে পরিচিত।”

“কবি যদি লোভী হয়, তাহলে সে কবি নয়, তা হলে সে পথের কাঙাল। কখনও সবুজ পরে, কখনও গেরুয়া ধরে, কখনও-বা টকটকে লাল। কবি যদি লোভী হয়, তা হলে সে কবি নয়, তা হলে সে ব'সে ফুটপাথে বলুক, 'সোনা কি তাঁবা যা-ই হোক দাও বাবা দাও এই কাঙালের হাতে '।”

“সুকুমার রায়কে 'হাসির কবিতা'র গণ্ডির মধ্যে ধরে রাখা যায় না। 'আবোল তাবোল', আমার প্রথম থেকেই মনে হয়েছে, বাংলা ভাষার রীতিমতো একটি কাব্যগ্রন্থ, যাতে হাসির ছুতো করে, ছবি ও কৌতুকের সাহায্যে ভুলিয়ে এনে, শিশুদের এবং বয়স্কদেরও কয়েক ফোঁটা বিশুদ্ধ কাব্যরস অন্তঃস্থ করে দেওয়া হলো। 'মেঘ-মুলুকে ঝাপসা রাতে রামধনুকের আবছায়াতে' বসে 'আলোয় ঢাকা অন্ধকারে'র গন্ধে ঘন্টাধ্বনি শুনতে পাবেন কি কবি ছাড়া অন্য কেউ? না কি অন্য কেউ 'পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা'কে 'জোছনা হাওয়ার স্বপ্ন-ঘোড়া'য় চড়িয়ে দেবেন? তাঁকে কবি বলে না-মানতে হলে "কবি" কথাটায় অন্যায়ভাবে সীমানা টানতে হয়। ("বাংলা শিশুসাহিত্য" প্রবন্ধ থেকে)”

“সবাই মানুষ থাকবে না। কেউ কেউ ধুলো হবে, কেউ কেউ কাঁকর ও বালি খোলামকুচির জোড়াতালি। কেউ ঘাস, অযত্নের অপ্রীতির অমনোযোগের বংশানুক্রমিক দূর্বাদল। আঁধারে প্রদীপ কেউ নিরিবিলি একাকী উজ্জ্বল। সন্ধ্যায় কুসুমগন্ধ, কেউ বা সন্ধ্যার শঙ্খনাদ। অনেকেই বর্ণমালা অল্প কেউ প্রবল সংবাদ।”

“সময় বলেনি আমাকে কিছু আমিও ছেড়েছি তার হাত তবুও ভুলে যাওয়া সন্ধ্যায় স্মৃতির আচমকা উৎপাত সেই যে দিনগুলো, বন্ধু আমাদের পুরোনো ঘরবাড়ি পুরোনো পৃষ্ঠার দেওয়ালে ধূসর অক্ষরদের সারি আঙুলে লেগে আছে জল জলের ভিতরে শুধু দৃশ্য সেই যে দিনগুলো, বন্ধু হয়েছে আজ অস্পৃশ্য তবুও ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছি আমার এই গিটারের ছন্দ কেউ তো জানলো না কিচ্ছু পুরোনো বৃষ্টির গন্ধ কুয়াশা কাটবে কিনা জানিনা আমি তো পাল্টে গেছি সেই কবে আমি তো ভুলে গেছি সবকিছু কী হবে মনে রেখে কী হবে? সময় বলেনি আজও আমাকে কীভাবে সন্ধ্যেগুলো রাত্রি হয় আজকে একলা আমি এই রাতে নিজেকে ধীরে ধীরে করছি ক্ষয় আমি তো পাল্টে গেছি সেই কবে তবুও ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছিলাম আমি তো ভুলে গেছি সবকিছুই কী হবে মনে রেখে কী হবে? (গানের নাম - "ক্ষয়" কথা - অরূপরতন সুর - মুহম্মদ)”

“এমন দিনে তারে বলা যায় এমন ঘনঘোর বরিষায়। এমন দিনে মন খোলা যায়— এমন মেঘস্বরে, বাদল-ঝরোঝরে তপনহীন ঘন তমসায়। ... দু কথা বলি যদি কাছে তার তাহাতে আসে যাবে কিবা কার? ব্যাকুল বেগে আজি বহে যায়, বিজুলি থেকে থেকে চমকায়। যে কথা এ জীবনে, রহিয়া গেল মনে সে কথা আজি যেন বলা যায়— এমন ঘনঘোর বরিষায়।”

“আমি কখনো অতিরিক্ত কিছুদিন বাঁচার জন্য সিগারেটের আনন্দ ছাড়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। আমি ভেবে রেখেছিলাম ডাক্তারকে বলব, আমি একজন লেখক। নিকোটিনের বিষে আমার শরীরের প্রতিটি কোষ অভ্যস্ত। তোমরা আমার চিকিৎসা করো, কিন্তু আমি সিগারেট ছাড়ব না। তাহলে কেন ছাড়লাম? পুত্র নিনিত হামাগুড়ি থেকে হাঁটা শিখেছে। বিষয়টা পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। দু-এক পা হেঁটেই ধুম করে পড়ে যায়। ব্যথা পেয়ে কাঁদে। একদিন বসে আছি। টিভিতে খবর দেখছি। হঠাৎ চোখ গেল নিনিতের দিকে। সে হামাগুড়ি পজিশন থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে। হেঁটে হেঁটে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। তার ছোট্ট শরীর টলমল করছে। যেকোনো সময় পড়ে যাবে এমন অবস্থা। আমি ডান হাত তার দিকে বাড়িয়ে দিতেই সে হাঁটা বাদ দিয়ে দৌড়ে হাতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বিশ্বজয়ের ভঙ্গিতে হাসল। তখনই মনে হলো, এই ছেলেটির সঙ্গে আরও কিছুদিন আমার থাকা উচিত। সিগারেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত সেই মুহূর্তেই নিয়ে নিলাম।”

“কবি, তুমি গদ্যের সভায় যেতে চাও? যাও। পা যেন টলে না, চোখে সবকিছুকে-তুচ্ছ-করে-দেওয়া কিছুটা ঔদাস্য যেন থাকে। যেন লোকে বলে, সভাস্থলে আসবার ছিল না কথা, তবুও সম্রাট এসেছেন।”

“যাও, তাকে যেমন করেই হোক খুঁজে আনো। সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে নির্ভয়ে দাঁড়াক। সে এসে একবার এই হাততালির ঊর্ধ্বে গলা তুলে জিজ্ঞাসা করুক : রাজা, তোর কাপড় কোথায়?”

“বলের মতন মুখে মারছো ভালোবাসার ঝাপটা, রাখতে পারি ক্ষমতা কই— বুকের জমি রুক্ষ ধুলোয় শুয়ে ধুলো মাখছে শরীর নামে জন্তু, মোরগ হয়ে নাচে আমার ভুবনব্যাপী দুঃখ।”

“মর্মমূলে বিঁধে আছে পঞ্চমুখী তীর, তার নাম ভালোবাসা। কেটেছে গোক্ষুরে যেন, নীল হয়ে গিয়েছে শরীর, তার নাম ভালোবাসা।”

“নদীর বৈকালিক ছায়ার মতো শীতল হয়ে আছে— স্তব্ধতার বালুকাময় শবাগার। যখনই মনে পড়ে সুপারিবাগান ঘেরা মাটিরঙা স্মৃতিগুচ্ছের কথা, তার কথা, আলগোছে ভাবি, ফের যদি ডাক দিই তাকে? ফের যদি নতজানু হই। সহসা নিশ্চুপে আমি আমাকেই বলি, ফের তুমি নতজানু হবে? কাকে ডাকবে? কাকে ফের জানাবে আমন্ত্রণ? কার প্রতি নতজানু হবে? দায়হীন বেলুনয়ালার মতো যেকোনো দৈনন্দিন অছিলায় তোমাকে বাতাসে উড়িয়ে দিয়েছিলো যে, তার প্রতি? তার অন্তিম উচ্চারণগুলো মগ্নচৈতন্যের মতো করাঘাত করে আমার নিরেট সদরে-অন্দরে। আমি আমন্ত্রণ মুছে, ভাবনা মুছে, স্মৃতি মুছে, বালুকাকণা ঝেড়ে ফেলি আস্তিনের ভাঁজ থেকে, ইচ্ছে আর আকাঙ্ক্ষার রঙিন চিরকুটগুলো নিস্পৃহ বাদলা হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে ধীরে ধীরে ফের তীক্ষ্ণ ইস্পাত-অস্ত্রের মতো শিরদাঁড়া সোজা করে হেঁটে চলে যাই অবিরল বিস্মরণের দিকে।”

“এতগুলো শতাব্দী গড়িয়ে গেল, মানুষ তবু ছেলেমানুষ থেকে গেল কিছুতেই বড় হতে চায় না এখনো বুঝলো না যে "আকাশ" শব্দটার মানে চট্টগ্রাম কিংবা বাঁকুড়া জেলার আকাশ নয় মানুষ শব্দটাতে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই ঈশ্বর নামে কোনো বড়বাবু এই বিশ্বসংসার চালাচ্ছেন না ধর্মগুলো সব রূপকথা যারা সেই রূপকথায় বিভোর হয়ে থাকে তারা প্রতিবেশীর উঠোনের ধুলোমাখা শিশুটির কান্না শুনতে পায় না তারা গর্জন-বিলাসী, অনুভব করতে পারে না ঐকতান কিছু কিছু মানুষ আমাদের সাবালক করার জন্য মাথা খুঁড়ে গেলেন তাদের বড় বড় ছবি ঝোলানো হয়, আসলে গ্রাহ্য করে না কেউ আয় কানাই, আয় কামাল, তোরা আয় পৃথিবী ভর্তি বুড়ো-খোকাদের পাগলামি দেখে আমরা একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে হাসাহাসি করি!”

“ভারতের সর্বত্রই মেয়েদেরকে প্ররোচিত করা হয়েছে মাতৃকাশক্তির সঙ্গে নিজেদেরকে আইডেন্টিফাই করতে। কিন্তু দেবী হবার লোভ একটা বিরাট লোভ, একটা দুর্দান্ত নাগপাশ। এই লোভ যখন ভিতর থেকে মেয়েদেরকে একবার পেয়ে বসে, তখন তাদের বাইরের ইডিওলজি আর ভিতরের ইল্যুশন একেবারে একাকার হয়ে যায়। তখন তারা যাবতীয় অবিচার ও অত্যাচার সহ্য করতে পারে, সবরকমের আশাভঙ্গ ও ক্ষতিবোধকে সাবলিমেট করতে পারে, মেগালোমেনিয়াক দুঃসাহসে আগুনে পর্যন্ত ঝাঁপ দিতে পারে। এই দেবীবিলাস বাঙালী হিন্দু মেয়েদের সর্বনাশ করেছে : সিঁথির সিঁদুর আর কবজির শাঁখা থেকে পায়ের আলতা পর্যন্ত মাঙ্গলিক চিহ্ন ধারণ করে, গৃহের অধিষ্ঠাত্রী দেবী তথা পুরুষের গৃহলক্ষ্মী হয়ে, নিজেরা সাক্ষাৎ মা লক্ষ্মী সেজে, লক্ষ্মীপ্রতিমার সামনে গড় হয়ে পেন্নাম করে নিজেদের মনুষ্যত্বকে তারা জলাঞ্জলি দিয়েছে।”

“ছেলেমানুষ আর বুড়োমানুষ একই জগতে বাস করে, কিন্তু দুজনের দৃষ্টি সমান নয়। আমরা ছেলেবেলায় মাঝে-মাঝে যে অদ্ভুত লোকের সংস্পর্শে আসি, বড়ো হলে তা ভুলে যাই। দৈবক্রমে কেউ-কেউ বড়ো হয়েও বাল্যের দিব্যদৃষ্টি বজায় রাখেন, এঁরাই সার্থক শিশু-সাহিত্য লিখতে পারেন। লীলা মজুমদারের এই দুর্লভ বাল্যদৃষ্টি আছে। ছেলেমেয়েরা এঁর লেখা পড়ে তৃপ্ত হবে কারণ ইনি তাদের চোখেই দেখেছেন, তাদের ভাষাতেই লিখেছেন। কথাচ্ছলে সদুপদেশ দেবার চেষ্টা করেননি।”

“যখন মানুষের খুব প্রিয় কেউ তাকে অপছন্দ, অবহেলা কিংবা ঘৃণা করে তখন প্রথম প্রথম মানুষ খুব কষ্ট পায় এবং চায় যে সব ঠিক হয়ে যাক । কিছুদিন পর সে সেই প্রিয় ব্যক্তিকে ছাড়া থাকতে শিখে যায়। আর অনেকদিন পরে সে আগের চেয়েও অনেকবেশী খুশি থাকে যখন সে বুঝতে পারে যে কারো ভালবাসায় জীবনে অনেক কিছুই আসে যায় কিন্তু কারো অবহেলায় সত্যিই কিছু আসে যায় না।”

“The years of disillusion, the long debate of who-belongs-to-who, gathered at the mighty feet of the Bangladesh Liberation War like flood waters rising, gathering thick weeds and crusty dirt and pulling it all in one direction. At times, when the body count was high and the air tasted like bloody ash, the way mass graves smell, Sariyah had wondered what progress was supposed to taste like. Often it tasted like unanswered questions, stuck in the teeth. Bangladesh had given her the true answer, though: progress at its best is home-grown. It should taste like joy – pure, unhindered joy. Like the freshest sun-ripened mango on a tree, a little sunrise in her palm.”

“জীবনযাত্রার মান নিয়ে মানুষের রুচি এবং সংস্কৃতি বিচার এবং তার ভিত্তিতে পরিবারবিশেষের সামাজিক অবস্থান নির্ণয় (যা সবসময়ই নিজেদের তুলনায় নিম্নস্তরে) মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনের এক করুণ প্রহসন।”

“দিনকাল পাল্টে গেছে, এখন আর মানুষ আগের মতো নাই।মওলানা ধরনের মানুষের দিকে এখন আর আগের মতো ভয়-মিশ্রিত শ্রদ্ধার চোখে কেউ তাকায় না। মওলানাও যে বিবেচনায় রাখার মতো একজন, কেউ তাও বোধহয় মনে করে না। ছল্টুফল্টু ভাবে।”

“হিমু কখনও জটিল পরিস্থিতিতে পড়ে না। ছোটখাট ঝামেলায় সে পড়ে। সেই সব ঝামেলা তাকে স্পর্শও করে না। সে অনেকটা হাসেঁর মত। ঝাড়া দিল গা থেকে ঝামেলা পানির মত ঝরে পড়ল। আমার খুব শখ বড় রকমের ঝামলায় পড়লে সে কি করে। কাজেই হিমুর জন্য বড় ধরনের একটা সমস্যা আমি তৈরি করেছি। এবং খুব আগ্রহ নিয়ে তার কান্ড-কারখানা দেখেছি।”

“হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন; তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি। কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি। অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি; — কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন! স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে — "ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি, এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি? যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!" পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে।”

“ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা। ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে ‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’, অলীক স্বপ্নে ভাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না। ‘ইংলিশ’ ওর গুলে খাওয়া, ওটাই ‘ফাস্ট’ ল্যাঙ্গুয়েজ হিন্দি সেকেন্ড, সত্যি বলছি, হিন্দিতে ওর দারুণ তেজ। কী লাভ বলুন বাংলা প’ড়ে? বিমান ছেড়ে ঠেলায় চড়ে? বেঙ্গলি ‘থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ’ তাই, তেমন ভালোবাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না। বাংলা আবার ভাষা নাকি, নেই কোনও ‘চার্ম’ বেঙ্গলিতে সহজ-সরল এই কথাটা লজ্জা কীসের মেনে নিতে? ইংলিশ ভেরি ফ্যান্টাসটিক হিন্দি সুইট সায়েন্টিফিক বেঙ্গলি ইজ গ্ল্যামারলেস, ওর ‘প্লেস’ এদের পাশে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না। বাংলা যেন কেমন-কেমন, খুউব দুর্বল প্যানপ্যানে শুনলে বেশি গা জ্ব’লে যায়, একঘেয়ে আর ঘ্যানঘ্যানে। কীসের গরব? কীসের আশা? আর চলে না বাংলা ভাষা কবে যেন হয় ‘বেঙ্গলি ডে’, ফেব্রুয়ারি মাসে না? জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না। ইংলিশ বেশ বোমবাস্টিং শব্দে ঠাসা দারুণ ভাষা বেঙ্গলি ইজ ডিসগাস্টিং, ডিসগাস্টিং সর্বনাশা। এই ভাষাতে দিবানিশি হয় শুধু ভাই ‘পি.এন.পি.সি’ এই ভাষা তাই হলেও দিশি, সবাই ভালোবাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা। বাংলা ভাষা নিয়েই নাকি অ্যাংলা-প্যাংলা সবাই মুগ্ধ বাংলা যাদের মাতৃভাষা, বাংলা যাদের মাতৃদুগ্ধ মায়ের দুধের বড়ই অভাব কৌটোর দুধ খাওয়াই স্বভাব ওই দুধে তেজ-তাকত হয় না, বাংলাও তাই হাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা। বিদেশে কী বাংলা চলে? কেউ বোঝে না বাংলা কথা বাংলা নিয়ে বড়াই করার চেয়েও ভালো নিরবতা। আজ ইংলিশ বিশ্বভাষা বাংলা ফিনিশ, নিঃস্ব আশা বাংলা নিয়ে আজকাল কেউ সুখের স্বর্গে ভাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসেনা। শেক্সপীয়র, ওয়ার্ডসওয়ার্থ, শেলী বা কীটস বা বায়রন ভাষা ওদের কী বলিষ্ঠ, শক্ত-সবল যেন আয়রন কাজী নজরুল- রবীন্দ্রনাথ ওদের কাছে তুচ্ছ নেহাত মাইকেল হেরে বাংলায় ফেরে, আবেগে-উচ্ছ্বাসে না জানেন দাদা, আমার ছেলের বাংলাটা ঠিক আসেনা।”

“জানি, তার ভালোলাগাগুলি সংক্ষেপে লিখি নি কোথাও। ভালোবাসা- চলে যাওয়া সময়ের মতো; সময়ে তাই তাকে বলতে পারি নি। নিজের চাওয়ার কাছে এতোটাই পাথর ছিলাম। কিছু কিছু ভালোবাসা বোঝা যায় বিচ্ছেদের পর।”

“প্রতিদিন যে মানুষ গ্রহণযোগ্যতা হারায়, তাকে তুমি ভালোবাসতে শেখাও। গাছকে, পাখিকে, রাস্তার কুকুরকে। সে বুঝবে পৃথিবীতে প্রতিদানে শুধুমাত্র মানুষ ফেরায়।”

“পৃথিবীর কাছে আমি অন্ধের মতো রঙের বর্ণনা শুনি। অথচ এও জানি জলের স্বচ্ছতা নিয়ে তোমাকে কোনদিন পড়তে পাব না। তোমার ক্ষতের গায় আঙ্গুল বুলিয়ে পড়ে চলেছি ব্রেইল পদ্ধতিতে।”