Quotessence
Home / Authors / Mriganka Sekhar Ganguly Biography

Mriganka Sekhar Ganguly Biography

Author

Related Quotes

“ঘুঞ্চর পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা নিয়ে ওর সাথে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা হচ্ছিল আজ। আমি- তোদের আর কী এমন লিখতে হয়। আমাদের এতো লিখতে হত, খাতা এতো মোটা হত, ওটা এক্সাম শিট না টেক্সট বুক বোঝা যেত না। ঘুঞ্চ- হ্যাঁ বাবা বলছিল, একবার তুমি খাতা জমা দিতে গিয়ে ভুল করে বেঞ্চের নীচে রাখা বইটা জমা দিয়ে এসেছিলে। আমি - তুই কি বলতে চাস আমি চিটিং করতাম? ওরে লিখতে লিখতে আমার আঙুল ক্ষয়ে যেত। ঘুঞ্চ - হ্যাঁ একবার তো ভেঙেও গেছিল, তাই না কাকাই? আমি - বাজে বকিস না। তোদের তো জলের মতো কোশ্চেন দেয়। আমাদের সময় এতো কঠিন প্রশ্ন আসত, যে স্যারেরা বুঝতে পারতো না প্রশ্ন দেখে উত্তর মেলাবে না উত্তর দেখে প্রশ্ন মেলাবে। ঘুঞ্চ - সে তো হবেই। উত্তর না জানলে তো তুমি প্রশ্নটাই ১০০ বার লিখে খাতা ভরিয়ে আসতে। আমি বুঝলাম এই নিতান্ত বালককে আমার কঠোর পরিশ্রমের কথা বোঝাতে পারবো না। তাই আর কথা বাড়াই নি।”

“আমার জলের সাথে বিষ মিশিয়েছো, তবুও তেষ্টা কই মেটাতে পেরেছো? "मेरे जल में विष मिलाया है, फिर भी प्यास कहाँ मिटा पाए हो?" "Mere jal mein vish milaaya hai, Phir bhi pyaas kahaan mita paaye ho?" "Poison you poured into my stream, yet did my thirst find its dream?”

“জানি, তার ভালোলাগাগুলি সংক্ষেপে লিখি নি কোথাও। ভালোবাসা- চলে যাওয়া সময়ের মতো; সময়ে তাই তাকে বলতে পারি নি। নিজের চাওয়ার কাছে এতোটাই পাথর ছিলাম। কিছু কিছু ভালোবাসা বোঝা যায় বিচ্ছেদের পর।”

“প্রতিদিন যে মানুষ গ্রহণযোগ্যতা হারায়, তাকে তুমি ভালোবাসতে শেখাও। গাছকে, পাখিকে, রাস্তার কুকুরকে। সে বুঝবে পৃথিবীতে প্রতিদানে শুধুমাত্র মানুষ ফেরায়।”

“পৃথিবীর কাছে আমি অন্ধের মতো রঙের বর্ণনা শুনি। অথচ এও জানি জলের স্বচ্ছতা নিয়ে তোমাকে কোনদিন পড়তে পাব না। তোমার ক্ষতের গায় আঙ্গুল বুলিয়ে পড়ে চলেছি ব্রেইল পদ্ধতিতে।”

“কী হয় ঝড়ের সাথে ফেলে দেওয়া চিঠি উড়ে এলে? হয় তো বা পড়ে দেখি আরেকবার, অভ্যাসবশত। যদিও জানি না, সময়ের সাথে অর্থ বদলে যায় কি না। অথচ দু'বার আমরা মানুষ পড়ি না।”

“ভালোবাসি' - মুখে বলতে পারে না সকলে। অবান্তর খোঁজ নেবে- বাড়ি ফিরেছ কিনা। মনে করাবে ওষুধের কথা। প্রতিদিন প্রশ্ন করবে- কেমনটা আছ 'ভালোবাসি'- মুখে বলতে সকলে পারে না৷”

“মাঝে মাঝে এমনও হয়েছে- যা কিছু বলার ছিল লিখেছি সাধ্যমত তোমাকে বোঝাতে। তারপর মনে হল- হয় তো আমার কথা তোমাকে ক্লান্ত ক'রে তোলে। তাই সব মুছে দিয়ে চুপ ক'রে গিয়েছি সহসা।”

“বুকের বাঁ দিকে কোন উপমা থাকে না, একমাত্র হৃদ্-রোগী জানে। তুমি এসে শিখিয়েছ - প্রকৃত একাকী হ'লে মৃত্যুভয় কেটে যেতে থাকে; মানুষ গাছের মতো নির্লিপ্ত হয়ে যায়; কাটা পড়ে, তবু প্রাণে আঘাত লাগে না।”

“যদি এ সহজ সত্য বুঝে নিতে পারো- আমার কিছুই নেই কবিতা লেখার। যে আঘাত অপরাধ তোমাকে দিয়েছি, শিশুর মতন সহজাত, ফিরিয়ে দেবেই যদি অসময়ে কেন যে ফেরালে। তোমাকে দেবতা রূপে যে দানব বসায় আসনে তাকে না শাসন দিও; প্রেম ভরে দিলে অবহেলা। আমাকে বিবস্ত্র করে সকলের সামনে নিয়ে ফেলো। মানুষ দেখুক, এই লোমহীন হৃদযন্ত্র থেকে মৃত নাগরিক শব্দে যে শিশির প্রার্থনা শোনায়, সে জানে রোদের হাতে মৃত্যু তার বড় নমনীয়।”

“ভালোবাসা ভিক্ষুকের আধুলির মতো তার কোন সঞ্চয় নেই মালিকানা বদল একদিনের ব্যাপার তবুও ভিখারি কত আশা নিয়ে থাকে উপেক্ষা ভরেও যদি ছুঁড়ে দেয় কেউ সে বলে - ঈশ্বর মঙ্গল করুন। আমরা বোকার মতো আধুলি জমাই ঈশ্বরকে দোষ দি, আচল বেরোলে । - মৃগাঙ্ক শেখর গঙ্গোপাধ্যায়”

“মিথ্যেগুলো যত্ন ক'রে সাজাই ঘরে চুরি যাওয়ার ভয়ে বসাই খুব পাহারা এখন আমার সত্যি ভীষণ ইচ্ছে করে আমাদের মধ্যে আর কিছুই না থাক মিথ্যে ছাড়া।”

“আমার অসুখ করে। কী যে অসুখ করে বুঝতে পারি না। ডাক্তার তাড়া দেয়- পাঠায় একাকী এক অন্ধকার ঘরে। আমি ভাবি- এ তোমার বুকের ভেতর। মেঝেতে পায়ের ছাপ, দেয়ালে নখের। বোঝা যায় এতোদিন অন্য কেউ ছিল। চলে গেছে, রেখে গেছে অপেক্ষার দাগ। এ ঘরে জানলা নেই। যেটুকু বাতাস ঐ তোমার শ্বাসের। পরজীবী বেঁচে থাকা। তুমি যদি রাগ করো, দমবন্ধ করে রাখো, আমি তবে বাঁচি কী উপায়। জানো আমি ভুলে যাই- ওষুধ সময়ে খেতে, জল ঠিক মনেও পড়ে না। ঘাম হ'লে মনে হয় - ফ্যান তো চালানো ছিল, বন্ধ হয়েছে ঠিক কবে ? অথচ তোমার কথা - মনে পড়ে মনে পড়ে ভুলতে পারি না। ওষুধটা কড়া খুব; ডাক্তার বলেছিল - ঘুম হ'লে সব সেরে যাবে। যেন এ ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট মানুষ থাকে না। ইদানিং নিজেকেও ঠিক যেন মানুষ লাগে না; মনে হয়- কোন ঘড়ি, দম দিতে ভুলে গেছে কেউ। তুমিও তো দিনমানে দু'বার তাকাও বন্ধ হয়ে পড়ে আছি তাই আর বুঝতে পারো না।”

“যক্ষ-প্রিয়ার চিঠি দিতে নিতে মেঘ; কখন হয়েছে ঘন তার প্রেমাবেগ। অথচ প্রকাশে যত কুণ্ঠা ছিল তার ধারণে কৃষ্ণ হ'ল, বিষ-উদ্‌গার। যতবার আর ভার পারে না সে নিতে বৃষ্টি হয়ে ততবার ঝরে পৃথিবীতে।”

“এতটা পুড়িনি আগে; সেইবারও জ্বেলেছিলে, মোমবাতি মনে ক'রে। আমিও চাদর ভেবে তোমাকে জড়িয়ে গায়, সারারাত কাটিয়েছি গঙ্গার ধারে। I haven't burned this much before; Even that time you lit (me) , Thinking of (me) as a candle. I too, thinking of you as a shawl, wrapped you around my body, (and) spent the whole night by the Ganges.”

“আমার কিছুই করার থাকে না মাঝে মাঝে পুড়িয়ে দিতে হয় সদ্য পাকা ধান মাঠকে মাঠ। ১ দূরের স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের আওয়াজ, বুঝতে পারি ভোর হল। মনে পরে - প্রেমিকারা ডেকে দিত; একটা সময় - মায়ের গলার স্বর পাক খেয়ে ঢুকে থামত কানের ভেতর। সেসব শীতের দিনে, জানি না কোথার থেকে আজানের ডাক- বাবার রাস্তা ধ’রে কোচিং যেতাম। কোনদিন সময়েতে এলার্ম বাজে নি, তোমার যাওয়ার, তাই, বহু পর ঘুম ভেঙেছিল। কিছুকিছু ঘুম থাকে- ভাঙলে, বহুদিন কোন ঘুম আসে না। দূরের স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেনের ডাক, চলে যাচ্ছি কলকাতা ছেড়ে। ২ দাদা কবে কলকাতা ছেড়ে গ্যালো মনে পড়ে না। কিছুকিছু ছেড়ে যাওয়া বহুদিন না বোঝাই থাকে। বন্ধুরা বিদেশ গেলে কলকাতাও বহুদিন বুঝতে পারে না- কখন ত্রিকোণমিতি, ভূমিকেও লম্ব করে দেয়। ৩ আমরা আর কোন মিছিলে দাঁড়াব না হারাব না কোন ব্রাজিল বেঙ্গল ধমকে কেড়ে নেওয়া হাতের সিগারেট দু এক দিন থাক কথাও বন্ধ গোর্খা মেয়েটিকে বলাও হবে না রবির গানে তার এখনো চোখে জল আমরা ছেড়ে যাব - বিদেশে কলকাতা, গুগুল আর্থে প্রিয় মফস্বল। ৪ রাস্তারা এখন আর বাড়ি অব্ধি ছেড়ে যায় না বলে না, বোকাচোদা, আমার গা’য় না, একটু ঝুঁকে ড্রেনে বমি কর। বন্ধুরা বাইরে চলে গেলে কলকাতার রাস্তাঘাট নির্লিপ্ত হয়ে যায়।”

“ঈশ্বর দেহ পাল্টালেন – ডুবে যাওয়া মালা, ফুল, আশীর্বাদী হাত ভেঙ্গে পাড়ার ছেলেরা ঈশ্বরের মিমিক্রি ফাজলামি কেউ তাঁর মাথাটুকু নিয়ে একটা বাচ্চা ছেলে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে। কি চাই? বলে, একটা কিডনি হবে কিনা ।”